অামাদের সম্পর্কে জানতে নিচের লেখাটি পড়ুন

উম্মাতে মুহম্মাদ - আদর্শে ফুরকান

এটি ইসলামিক সংঘ, যার কাজ মানুষকে ধর্ম সম্পর্কে সচেতন করা এবং বিভিন্ন ধরনের সমাজ সংস্কারমূলক কাজ পরিচালনা করা । বর্তমানে এটি বরিশাল বিভাগের ...

ব্লগের লেখা:

বিদেশী সংস্কৃতি স্বাধীনতার জন্য হুমকি



Labels
বিদেশী সংস্কৃতি স্বাধীনতার জন্য হুমকি

‰mq` AvgRv` †nv‡mb:
বাংলাদেশ হাজার বছরের ঐতিহ্য ধারণ ও লালনকারী একটি দেশযে দেশের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি-স্বকীয়তাআছে গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্যসংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করেসংস্কৃতি দিয়েই একটি জাতি অন্য জাতি থেকে আলাদা হয় নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিক গেøাবালাইজেশনের এই সময়ে যে জাতির সংস্কৃতি যতটুকু স্বতন্ত্র, সে জাতি ঠিক ততটুকুই স্বাধীনকেউ যদি একটি দেশের বা জাতির স্বাধীনতা ধ্বংস করে দিতে চায়, তাহলে আধুনিক এই যুগে সশ¯্র হামলার খুব বেশী প্রয়োজন নেইযদি সেই জাতির স্বকীয়তা ও সংস্কৃতিতে বিজাতীয় ধ্বংসাত্মক অপসংস্কৃতি ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তবে সেই জাতি এমনিতেই তাদের গোলামে পরিণত হবেকেননা, সংস্কৃতি একটি জাতির সামগ্রিক পরিচয় বহন করেএকটি জাতির মানুষ যা করে, যেভাবে করে, যা দেখে, যেভাবে দেখে, যা চিন্তা করে, যেভাবে চিন্তা করে, যা পরে, যেভাবে পরে, সেটাই একটি জাতির সংস্কৃতিযেমন ইংরেজ জাতি ও আমাদের সংস্কৃতিতে বিস্তর ফারাকউদাহরণ সরূপ দুয়েকটি বলা যেতে পারেযেমন ইংরেজদের সংস্কৃতিতে তাদের ড্রেস কোড হলো, কোর্ট-টাই, বেøজার ইত্যাদিমদ্যপান হলো তাদের প্রধান পানীয়, তাদের আচার-অনুষ্ঠান কোনকিছুই শুরু করা হয় না যতক্ষণ না তারা শ্যাম্পেনের বোতলে গলা না ভেজায়এদিকে এদেশের সংস্কৃতি হলো লুঙ্গি, শাড়ী ও টুপি পাঞ্জাবীমদ্যপান এদেশের ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছেই পরিত্যাজ্য 
হাজার বছর ধরেই বাংলা মুসলমানদের একটি দেশতাই এ দেশের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে মুসলমানিত্ব ও ধর্মীয় আবেশেএই বাংলার বেশীর ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলার সংস্কৃতিতে গৃহস্থের উৎসবগুলো অনেকখানি জায়গা দখল করে আছেসে উৎসবগুলো বাদ দিলে বাংলার ঐতিহ্য বলে কিছু থাকে না মুসলমান হিসাবে এদেশের মানুষের প্রধান উৎসব হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এবং ধর্মীয় আচারগুলোই হলো এদেশের প্রধান সংস্কৃতি৬০-৭০ ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর ও গৃহস্থ হওয়ায় গ্রামীণ উৎসবগুলোও এদেশের সংস্কৃতিতে স্বমহিমায় উজ্জল হয়ে আছেআজ থেকে ১০ বৎসর পূর্বেও যে উৎসবগুলো ছিল এদেশের সংস্কৃতির প্রধান অনুসঙ্গ ১০ বছরের ব্যবধানে এখনকার ছেলেমেয়েরা নামও হয়তো জানেনাআন্তঃজালের এই সেবা আমাদের জন্য কতটুকু আশির্বাদ আর কতটুকু অভিশাপ তা হয়তো সময়ই বলে দিবেযে জাতির বিনোদন ছিল নবান্ন, পিঠা আর গ্রামীণ মেলার মতো উৎসবযে জাতির জীবনে বছরের দুইটি ঈদ ছিল সবচেয়ে আকাক্সক্ষার দিনসে জাতি আজ নিজেদের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে পালন করে বিদেশ থেকে আমদানি করা অপসংস্কৃতি আমরা দেখতে পাই কিছু নাস্তিক দেশ ও ইসলাম বিরোধীদের হাত ধরে এদেশে প্রবেশ করে ভ্যালেন্টাইনস ডে নামক চরিত্র ও ইমান বিধ্বংসী তথাকথিত পশ্চিমা কালচার জাতি যখন ভালবাসা দিবস নামক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কোমার পর্যায়ে চলে গেছে তখন ইন্টারনেটের হাত ধরে এদেশে আমদানি হচ্ছে কিস ডে, রোজ ডে, প্রপোজ ডে, চকলেট ডে, টেডি ডে নাম সমূহের মতো জঘন্য সব নামের দিবস, যা শুধুমাত্র যৌন সুরসরি নয় সরাসরি যিনার আমন্ত্রনআজ ইউরোপ আমেরিকায় মায়ের পরিচয়ে সন্তানের পরিচয় দিতে হয়কিন্তু ইসলাম সন্তানকে বাবার পরিচয়ে পরিচিত করে বংশ ধারা বাবার বংশের সাথেই নির্ধারিত করেপশ্চিমা বিশ্বে মায়ের পরিচয়ে সব কাজ করতে হয়কারণ অধিকাংশ ছেলে মেয়েই জানে না তাদের জন্মদাতা আসলে কেআর সেই জন্মপরিচয়হীন জারজ কালচার মুসলমানের অভয়ারন্যে চালু করতে ৯০ দশকের শুরুর দিকে এক নাস্তিক তার বিদেশী প্রভুদের ছত্রছায়ায় এদেশে আমদানি করে ভালবাসা দিবসআমার পুতঃপবিত্র এই মাটিকে নষ্ট করার চক্রান্তে এই নাস্তিক গোষ্টি অনেক এগিয়ে গেছেএই যে আমাদের চরিত্রের আজ অবক্ষয়, রাস্তা ঘাটে বেওয়ারিশ শিশুকুকুর শিয়ালে টানাটানি করছে নাম পরিচয়হীন মানব সন্তানতার সবকিছুই ভ্যালেন্টাইনস নামক ক্যান্সারের অবদানবিলিভ ইট ওর নটএটাই সত্যি যে, এদেশের টিনএজরা এই চরিত্র বিধ্বংসী তথাকথিত দিবসগুলো খুব ঘটা করেই পালন করছে আর গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে নিজের চরিত্র, ইমান ও সমাজ ধ্বংস করছে
এগুলো ছাড়াও হাল আমলে এদেশে আরও কিছু দিবস পালন করা হচ্ছেবন্ধু দিবস নামক একদিনে একজন আরেকজনের হাতে সুতা বেঁধে দেয় অন্য ধর্মের একটি অনুষ্ঠানের আদলেওই ধর্মে হাতে সুতা (রাখি) বেঁধে দেয় কারণ তারা বিশ্বাস করে এই কাজটি করলে তাদের বন্ধন চিরদিন থাকবেআর এটাই তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসতেমনিভাবে বন্ধুদিবসেও এই বিশ্বাস নিয়েই একে অন্যের হাতে সুতা বেঁধে দেয়যা সরাসরি একটি শিরকী চিন্তাকয়েকবছর যাবত রং খেলানামক একটি খেলায় মুসলমান ছেলে-মেয়েদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করার মতোবিশেষ করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যাপকভাবে সেই অনুষ্ঠান পালন করছেআবার কোনো কোনো স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্য করা হচ্ছে অংশগ্রহণ করার জন্যকিছু কিছু জায়গায় শোনা গেছে যে স্কুলের গেইট বন্ধ করে দিয়ে জোরপূর্বক উক্ত খেলায় অংশগ্রহন করানো হচ্ছেআরও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা গেছে এই দিন আবার অন্য একটি ধর্মের ধর্মীয় উৎসবসেই উৎসবেও রং দিয়ে রাঙ্গিয়ে দেয় একে অপরকেসেটি তাদের ধর্মীয় উৎসবঠিক একই দিনে মুসলমান ছেলে মেয়েদের একই রকম অনুষ্ঠান পালন করা কি পরিকল্পিত না কাকতলীয় সেটি ভাবার বিষয়আল্লাহর উপর বিশ্বাসস্থাপনকারী কোনো মানুষ এইসব অনুষ্ঠান, উৎসবে যোগ দিতে পারে নাতাই জাতিসত্বার দোহাই দিয়ে কৌশলে মুসলমান ছেলে-মেয়েদের শিরকে লিপ্ত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না সেটা কে বলবে? এই বিজাতীয় কালচার আমাদের সংস্কৃতি কবে থেকে হলো তা খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবী
ষড় ঋতুর এই বাংলাদেশে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন নিয়ে গ্রাম বাংলায় উৎসব পালন করা হতোকিন্তু ইদানিং এই উৎসব আর গ্রামে গঞ্জে পালন করা হয় নাএই উৎসব এখন শহুরে উৎসববসন্তকে বরণ করার নামে এখন সমাজে বেহায়াপনা মহামারীর আকার ধারণ করেছেবিশেষ করে আমাদের ভাষার মাস, শোকের মাস ফেব্রæয়ারি একটি অবাধ মেলামেশা আর অবৈধ সম্পর্কের প্রধান মাস হিসাবে পরিচিত হয়ে গেছেএখন ফেব্রæয়ারি আর শোকের মাস নেইফেব্রæয়ারি এখন যৌনতা আর রুচিহীন সংস্কৃতির মাসআবহমান বাংলার ঐতিহ্য উৎসব নবান্ন, পিঠা উৎসব এখন আর আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি বলে মনেই হয় নাবাঙ্গালী জাতি ¯øাগানের ধোয়া তুলে বৈশাখি উৎসব নামে মুসলমানদের এখন সরাসরি মূর্তিপূজায় অংশগ্রহন করানো হচ্ছেবাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম, অজপাঁড়া থেকে গাঁয়ের অলিগলি কোথাও এখন আর হিন্দি গানের ডিজে ছাড়া অনুষ্ঠান আশা করা যায় নাসুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানেও এখন বিজাতীয় অশ্লিল গানের সাথে ছেলে-মেয়েদের নৃত্য যেন বাধ্যতামূলকযুবসমাজ মেতে আছে বলিউড নিয়েযারা বুঁদ হয়ে থাকে আনুশকা, ক্যাটরিনা আর অরজিত সিংদের নিয়েঘরের মা-মেয়েরা আছে স্টার জলসা, জি বাংলা আর স্টার প্লাসের কটনামী, পরকীয়া আর চরিত্র বিধ্বংসী সব সিরিয়াল নিয়েযেখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে একত্রে বাবা ছেলে দুই বোন কে বিয়ে করার মতো জঘন্য কাহিনীপ্রমোট করা হচ্ছে লিভ টুগেদার নামে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককেপৃথিবী না চেনা শিশুরা মা বাবাকে চেনার আগেই ডোরিমন আর মুটো পাতলুকে চিনে ফেলেমা-বাবা ডাকা শেখার আগে হিন্দি ভাষা বুঝতে এবং বলতে পারেআমাদের ধর্মীয় উৎসবেও এখন ভিনদেশী সংস্কৃতির অপচ্ছায়াঈদে এখন অন্য দেশের লেহেঙ্গা, কিরণমালা বা পাখি ড্রেস না হলে চলে নাকোনো কোনো জায়গায় নাকি সেইসব ড্রেসের জন্য আত্মহত্যাও করে ফেলেছে কয়েকজনজামা-কাপড় না পরে থাকা এ্যক্টরের নামে ড্রেসের নামকরণ করা হয় আমাদের মেয়েরা আবার সেইসব ড্রেস ছাড়া ঈদ উদযাপনই করতে পারে না
যেখানে আমাদের সংস্কৃতি বছরে দুইটি ঈদ ছাড়াও ছিল শবে বরাত-শবে কদরে রাত জেগে ইবাদত করারমজান মাসে সবাই মিলে সেহরি ইফতার করাশুক্রবারদিন জুমার নামাযে সবার মনে ঈদের আনন্দ বিরাজ করাগ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ-মাহফিল সেই মাহফিল উপলক্ষে আগে পরে সাতদিন গ্রামীণ মেলা ছিল আমাদের ঐতিহ্যের অংশ সেখানে মঙ্গল প্রদীপ, তীলক-ঢোলক, হোলি আর রাখি বন্ধন কোত্থেকে এলো? কেন এলো? কেন একটি স্বাধীন জাতিকে মননে-মস্তিষ্কে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে? মোহাম্মদী চেতনা-আদর্শে বেড়ে উঠা এদেশের সংস্কৃতিতে বিজাতীয় সংস্কৃতির এই নগ্ন আগ্রাসন কেন? কেন আমাদের সংস্কৃতিতে শিরকী অপসংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবল? কারা আমাদের সহজ সরল মুসলমানদের মুশরেক বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে আর কারা নর্দমা সংস্কৃতির নীল বিষ এই সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে? এসব কিসের আলামত, তা যদি এখনই চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে সেইদিন খুব বেশী দূরে নয় যেদিন আমরা আমাদের স্বকীয়তা ভুলে গিয়ে ভিনদেশী হয়ে যাবোপতাকা থাকবে কিন্তু স্বাধীনতা থাকবে নাঅবয়ব মুসলমানের থাকলেও ঈমান আকীদায় মুসলমানের চিহ্নও থাকবে না

Copyright @ 2013-15 উম্মাতে মুহম্মাদ - আদর্শে ফুরকান.